টিপস এন্ড ট্রিকসটেক জ্ঞান

মোবাইল হ্যাং হলে করণীয় – মোবাইল ফাস্ট করার উপায়

আমাদের কিছু ভুল এবং যান্ত্রিক কারণে মোবাইল ফোন হ্যাং হতে পারে। চলুন জেনে নেই কেন ফোন হ্যাং করে? কি করলে এই হ্যাং হওয়া থেকে মোবাইলকে বাঁচানো যায়।

মোবাইল ফোন হ্যাং করে? জেনে নিন সমাধান

বর্তমান সময়টা বেশ উন্নত। বিশেষ করে অনেক দিক থেকেই প্রযুক্তিগত উন্নত হয়েছে আমাদের বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব। উন্নত বিশ্ব ঘটনে স্মার্টফোনেরও অনেক অবদান আছে। অবদান আছে প্রতিটি স্মার্টফোন নির্মাতাদের।

স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ বললে ভুল হবে না। প্রতি মুহুর্তে আমাদের স্মার্টফোনের সহযোগিতা নিতে হয়।

ইমেইল করা থেকে শুরু করে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা অপরিচিত বাসা খোজার কাজেও স্মার্টফোনের ব্যবহার হয়। ফেসবুক ইউটিউব সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতে সর্বাধিক ব্যবহার হয় এই স্মার্টফোন।

তবে এই অতি প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন চালাতে আমাদের বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হয়, সেগুলোর মধ্যে মোবাইল হ্যাং হচ্ছে অন্যতম। আর তাই এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করেছি কিভাবে স্মার্টফোন হ্যাং থেকে রক্ষা করা যায়।

মোবাইল ফোন কেন হ্যাং করে?

প্রথমে আমাদের জানতে হবে মোবাইল ফোন কেন হ্যাং করে বা হ্যাং এর শিকার কেন হয়। তাহলেই আমরা তার সমাধান পাবো।

বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার উপায়

১. মোবাইল ফোনের স্পেস কম থাকা বা মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজে জায়গা কম থাকা।
২. র‍্যাম ও মেমোরির তুলনায় অধিক অ্যাপ্লিকেশন ফোনে ইনস্টল করা ও ব্যবহার করা।
৩. ফোনে ভারি অ্যাপ্লিকেশন ও ভারি গেম চালানো।
৪. ফোনের টাস্কে একই সাথে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন রান করা।
৫. অপ্রোয়জনীয় অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে রাখা।

আরও পড়ুনঃ  Infinix Hot 12 Pro কবে ভারতে লঞ্চ হচ্ছে এবং তার স্পেসিফিকেশন

উপরে যে সমস্যা গুলোর কথা বলা হয়েছে, সাধারণত ফোন এই গুলোর কারণেই হ্যাং হয়। আমি নিচে বেশ কিছু উপায় তুলে ধরেছি, আপনি যদি সেগুলো ফলো করেন। আশা করি আপনার ফোনের হ্যাং সমস্যা সমাধান হবে।

মোবাইল হ্যাং সমস্যা সমাধানে করণীয়

১. অ্যাপ অতিরিক্ত স্টোরেজে ব্যবহার করুন

কোন অ্যাপ্লিকেশন ফোনে ইনস্টল করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন ফোনের ইন্টারনেল স্টোরেজে না রাখার। অর্থাৎ কোন অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার ক্ষেত্রে ফোনের এক্সটারনাল মেমোরি ব্যবহার করুন।

যদিও বর্তমানের স্মার্টফোনে ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশি থাকে, কিন্তু পূর্বের ফোনগুলোতে ৪ জিবি ৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ দেয়া থাকতো।

পূর্বের ফোনগুলোতে স্টোরেজ কম থাকায় অ্যাপ্লিকেশন অতিরিক্ত স্টোরেজে ট্রান্সফার করা যায়। তবে বর্তমানের ফোনগুলো ব্যতিক্রম।

আপনি যদি এই প্রসেস ফলো করেন তাহলে আপনার ব্যবহৃত ফোনটি অবশ্যই আগের চাইতে ভালোভাবে রান করবে।

২. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট বা আনইনস্টল করুন

আরও পড়ুনঃ  ১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মোবাইল ২০২২ - ৫টি সেরা স্মার্টফোন

আপনার ফোন হ্যাং করার অন্যতম কারণ হতে পারে আপনার ফোনে অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল থাকা। এক্ষেত্রে আপনি যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার না করেন সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। তাহলে অবশ্যই আপনার ফোন আগের চাইতে বেশ খানিকটা স্মুথলি রান করবে।

৩. ভারি অ্যাপ চালানো বন্ধ করুন

আপনার ফোনের র‍্যান্ডম এক্সেস মেমরি (RAM) যদি কম থাকে, তাহলে কখনোই ফোনে ভারি অ্যাপ্লিকেশন ও ভারি গেম চালাবেন না।

যেসব ফোনে র‍্যাম কম থাকে সেগুলোই সবচেয়ে বেশী হ্যাং করে বলে ধারণা করা হয়। তবে ফোন হ্যাং করার কারণ হিসেবে ভারি অ্যাপ ও গেমকে ধরা হয়।

আপনি যখন কম সাইজের র‍্যামে ভারি অ্যাপ চালাবেন তখন লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন আপনার ভারি অ্যাপ্লিকেশন সহ আপনার ফোনের অন্যান্য সিস্টেমেও হ্যাং এর শিকার হবে। সুতরাং র‍্যাম কম থাকলে অবশ্যই ভারি অ্যাপ চালানো বন্ধ করে দিন।

৪. একই সঙ্গে অধিক অ্যাপ ব্যবহার করবেন না

প্রতিটি ফোনের স্টোরেজ ও র‍্যাম অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার লিমিট থাকে। যখনি সেই লিমিট ক্রস হয় তখনি ফোনগুলি হ্যাং করে।

শুধু হ্যাং বললে ভুল হবে, কিছু সময় মোবাইল অটুমেটিক বন্ধ হয়ে পুনরায় চালু হয়।
এমন ঘটনা যদি আপনার সাথে ঘটে তাহলে বুঝবেন আপনি আপনার ফোনের ক্ষমতার বাইরে তাকে ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাজারে আসতে যাচ্ছে রেডমির নতুন ফোন রেডমি ১২ এক্সপ্লোরার, জানুন বাংলাদেশ দাম

তাই আমার পরামর্শ থাকবে অবশ্যই আপনার প্রিয় ফোনটিতে অতিরিক্ত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার বা একসাথে অধিক অ্যাপ্লিকেশন চালিয়ে রাখবেন না।

৫. কিছু অ্যাপ বন্ধ রাখুন

বর্তমানে অধিকাংশ ফোনে অ্যাপ ফ্রিজ করার ফিচার আছে। আপনার ফোনে যদি অনেক অ্যাপ থাকে এবং সেগুলো যদি আপনার প্রাইমারি অ্যাপ্লিকেশন এর বাইরে হয় (যেমনঃ হঠাৎ করে কাজে লাগে এমন অ্যাপ) তাহলে সেগুলোকে অ্যাপ ফ্রিজারে রেখে দিন।

এক্ষেত্রে যে অ্যাপগুলোকে আপনি ফ্রিজ করে রাখবেন সেগুলো আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চলবেনা। ফলে আপনার ফোন হ্যাং থেকে রক্ষা পাবে।

যাদের ফোনে অ্যাপ ফ্রিজার নেই তারা গুগল প্লেস্টোর থেকে টাস্ক কিলার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। যদিও এগুলো থার্ড পার্টি অ্যাপ, তবে আপনার কাজে লাগবে।

শেষ কথাঃ বন্ধুরা, এই ছিলো আজকের আর্টিকেল। আশা করছি আপনার সময় নষ্ট করিনি। আর্টিকেল সম্পর্কে যেকোন মতামত কমেন্টে গ্রহণযোগ্য। আশা করছি আপনার মতামত পাবো। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

মোঃ আশিক মিয়া

মাতৃভাষায় প্রযুক্তি জ্ঞান ছড়ানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস। ভালো লাগে প্রযুক্তির জ্ঞান বাংলা ভাষাভাষীদের সাথে ভাগ করে নিতে।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

অ্যাডব্লকার ডিটেক্ট হয়েছে!

মনে হচ্ছে আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমাদের সাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অ্যাড ব্লকার বন্ধ করতে হবে। যদি অ্যাডব্লকার ব্যবহার না করেন, তাহলে পেজটি রিফ্রেশ করুন।