অনলাইন আয়টেক জ্ঞান

রিং আইডি কি? সুবিধা কি? ringID দিয়ে কিভাবে ইনকাম করবেন? বিস্তারিত

বর্তমানে রিং আইডির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্য বৃদ্ধি পাওয়ার যথেষ্ট যুক্তি ও কারণ রয়েছে। রিং আইডিতে ব্যবহারকারীরা অনেক সুবিধাসহ অনলাইনে ইনকাম করার সহজ উপায় খুজে পেয়েছে। এছাড়াও লাইভটিভিসহ অনেক আধুনিক সুবিধা আছে রিং আইডিতে যার জন্য মানুষ রিং আইডিতে রীতিমত ঝাপিয়ে পড়ছে। 

যেহেতু রিং আইডি নিয়ে মানুষের কৌতুহল বেড়েছে তাই আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে রিং আইডিকে নিয়ে কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর দিব। সেই সাথে রিং (ring ID) দিয়ে কিভাবে ইনকাম করে সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাবো।

যেমনঃ রিং আইডি কি? রিং আইডিতে কি কি সুবিধা আছে? রিং আইডির মালিক কে? রিং আইডি কোন দেশের মালিকানাধীন? রিং আইডির প্রতিষ্ঠাতা কে? রিং আইডি দিয়ে ইনকাম করার উপায় ও ইত্যাদি। তাহলে চলুন শুরু করি।

রিং আইডি (ringID) কি?

রিং আইডি (ringID) হলো অত্যাধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শুধুই যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমনটা নয়, রিং আইডি (ring ID) ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি ফোন কল, টেক্সট মেসেজিং, ভয়েস কল, ভিডিও কল, নিউজফিড ইত্যাদি ধরনের সেবা পেয়ে যাবেন। এছাড়াও রিং আইডি (ringID) তে ছবি, নিজের মতামত স্ট্যাটাস, স্টিকার শেয়ার করা যায়। 

রিং আইডিতে (ringID) বিভিন্ন টিভি চ্যানেল লাইভ স্ট্রিম দেখা যায় এবং মিডিয়া ক্লাউড থেকে অডিও ও ভিডিও স্ট্রিমও করা যায়।
রিং আইডি (ringID) এর বিশেষত্ব হলো এটি কম ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেটেও ব্রাউজ করা যায়। এছাড়াও বর্তমানে রিং আইডি (ringID) থেকে রেফার ও ইনভেস্ট করার মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

রিং আইডি (ringID) এমন একটি প্লাটফর্ম,  যেখানে ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে কল, মেসেজ, স্টিকার, গোপন চ্যাট অথবা সিক্রেট চ্যাটসহ নানা সেবা উপভোগ করতে পারে।

রিং আইডির (ringID) মালিক/ প্রতিষ্ঠাতা কে?

রিং আইডি (ringID) কানাডার মন্ট্রিয়েল সিটিতে অবস্থিত “রিং ইনকর্পোরেশন” এর দ্বারা পরিচালিত হয়। কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিন ইসলাম ও শরিফ ইসলামে যৌথভাবে রিং আইডি (ringID) প্রতিষ্ঠিত করেন।
এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন রিং আইডি (ringID) এর প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা। 

রিং আইডি (ringID) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

রিং আইডি (ringID) ২০১৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম প্রকাশ হয়। রিং আইডি (ringID) ব্যবহারকারীদের কাছে সিক্রেট চ্যাট এর কারণে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়। সিক্রেট চ্যাট ফিচারের মাধ্যমে একজন অন্যজনের কাছে সময় নির্ধারণ করে বার্তা পাঠাতে পারে। যখন নির্ধারণ করা সময় শেষ হবে তখন বার্তা অদৃশ্য হয়ে যায়।

এছাড়াও রিং আইডি (ringID) তে ব্যবহারকারী সময় নির্ধারণ করে গোপন ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাঠাতে পারে যা পাঠক শুধুমাত্র একবার দেখার সুযোগ পায়।  একবার দেখে নিলেই সে ফাইলটি অদৃশ্য হয়ে যায়।

রিং আইডি (ringID) দিয়ে ইনকাম করার উপায়!

বিভিন্ন ধরনের সুবিধার জন্যে রিং আইডি (ringID) দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তেমনি একটি সুবিধা হলো অনলাইনে ইনকাম।
রিং আইডি (ringID) ব্যবহার করে পূর্ব থেকেই ইনকাম করা যেতো এখনো ইনকাম করা যায় তবে বর্তমানে ইনকাম করার মাধ্যম আগের চাইতে অনেক বেশী।

রিং আইডি (ringID) প্রকাশের পর থেকেই রেফার করে আয় করা যেত, এখনো রেফার করে আয় করা যায়। তার পাশাপাশি এখন রিং আইডি (ringID) তে কমিউনিটি আর্নিং নামের নতুন ইনকাম পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে।
কমিউনিটি আর্নিং নামের নতুন যে ইনকামের মাধ্যম তারা নিয়ে এসেছে তার মাধ্যমে ব্যবহারকারী রিং আইডি (ringID) তে ইনভেস্ট করে আয় করতে পারবে।

এর আগেও অনেক ইনভেস্ট প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে তবে সেই প্লাটফর্মগুলো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি যেমনটা রিং আইডি (ringID) পেয়েছে। 

রিং আইডি (ringID) অল্প সময়েই এই পদ্ধতি নিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রিং আইডি (ringID) তে ইনভেস্ট ছাড়াও এজেন্ট হয়ে আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন। অর্থাৎ রিং আইডি (ringID) তে সর্বমোট ৩টি উপায়ে ইনকাম করা যায়।

রিং আইডি (ringID) তে তিনটি উপায়ে ইনকাম করুন

উপরে বলেছি রিং আইডি (ringID) এর মাধ্যমে আয় করার মাধ্যমগুলো নিয়ে এবার চলুন ইনকাম করার উপায় জানি। রিং আইডি (ringID) মোট ৩টি মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

  • রেফার করে আয়
  • ইনভেস্ট করে আয়
  • এজেন্ট হয়ে আয়

উপরের ৩টি মাধ্যম থেকে যেকোন মাধ্যম ব্যবহার করে রিং আইডি (ringID)তে আপনি ইনকাম করতে পারবেন। এবার চলুন জেনে নেই কিভাবে ইনকাম করতে হয়।

১. রেফার করে ইনকাম করুন

রিং আইডি (ringID) তে রেফার করে আয় করা সবচাইতে সহজ। রেফার করে আয় করার মাধ্যমটি রিং আইডি (ringID) তে শুরু থেকেই আছে।

আপনার রেফার কোড ব্যবহার করে আপনি যদি আপনার কোন বন্ধু বা নতুন কোনো ব্যবহারকারীকে রিং আইডি (ringID) তে অ্যাকাউন্ট খুলে দেন, তাহলে আপনি পেয়ে যাবেন ৫০ টাকা এবং যাকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিবেন সে পাবে ৫০ টাকা। এভাবে যতো লোককে আপনি রেফার করতে পারবেন আপনার ইনকাম ততোই বাড়বে।

আপনি যদি মাসে ১০০ টা রেফার করতে পারেন তাহলে (১০০x৫০= ৫০০০) ৫ হাজার টাকা সহজেই আয় করতে পারবেন। এভাবে যতো বেশী রেফার করতে পারবেন আপনার ইনকাম ততোই বাড়বে। রেফার করে ইনকাম করার ক্ষেত্রে কোন লিমিটেশন নেই, তাই আপনি রেফার করে মাসে আনলিমিটেড আয় করতে পারবেন।

২. কমিউনিটি জবের মাধ্যমে ইনকাম করুন

রিং আইডি (ring ID) তে ইনকাম করার নতুন মাধ্যম হলো কমিউনিটি জব। কমিউনিটি জবে ইনভেস্ট করে আয় কর‍তে হয়।
কমিউনিটি জব এর মাধ্যমে ইনকাম করতে হলে আপনাকে কমিউনিটি টিমের সদস্য হতে হবে। আর সদস্য হতে গেলে আপনাকে কমিউনিটি মেম্বারশিপ নিতে হবে। রিং আইডি (ringID) কমিউনিটি জবে ২টি মেম্বারশিপ রয়েছে। একটি হলো সিল্ভার মেম্বারশিপ অন্যটি হলো গোল্ড মেম্বারশিপ।

সিল্ভার মেম্বারশিপের মূল্য ১২ হাজার টাকা। সিল্ভার মেম্বারশিপে প্রতিদিন ৫০টি কাজ থাকে সেগুলো কমপ্লিট করলে দৈনিক আয় হয় ২৫০ টাকা। কাজ তেমন কিছুইনা শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দেখা বা শর্ট লেন্থের ভিডিও দেখা। এভাবে মাসে ৭৫০০ টাকা আয় করা যায় সিল্ভার মেম্বারশিপে।

গোল্ড মেম্বারশিপের মূল্য হলো ২২ হাজার টাকা। গোল্ড মেম্বারশিপে প্রতিদিন ১০০টি কাজ থাকে যা কমপ্লিট করতে পারলে আপনি দৈনিক ৫০০ টাকা আয় করতে পারবেন। এটিতেও বিজ্ঞাপন বা শর্ট লেন্থের ভিডিও দেখতে হয়। এভাবে আপনি মাসে ১৫০০০ টাকা আয় করতে পারবেন।

কমিউনিটি জব বিস্তারিত

কমিউনিটি জবে ইনকাম করার মোট চারটি মাধ্যম রয়েছে। ১. ভিডিও দেখে আয়, ২.পন্য উপস্থাপন করে আয়, ৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়, ৪. প্রমোশনাল লিংক শেয়ার করে আয়।

ভিডিও দেখে আয়

ভিডিও দেখে আয় কমিউনিটি জবের প্রথম মাধ্যম। এখানে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট লেন্থের বিজ্ঞাপণ ভিডিও দেখানো হয় যা দেখে সম্পন্ন করা হলে সেখান থেকে ইনকাম হয়।

পন্য প্রদর্শন করে আয়

এই মাধ্যমের কাজ হলো ক্রেতাগণের কাছে পন্য বা সেবা প্রদর্শন ও উপস্থাপন করা। একই সাথে পন্য ও সেবা সম্পর্কিত প্রশ্নের যথার্থ উত্তর প্রদান করা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

এই মাধ্যমে রিং আইডি (ringID) এর প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের প্রমোশনাল লিংক শেয়ার করতে হয়। শেয়ার করা লিংক থেকে বিক্রিত পন্যের কমিশন থেকে আয় হয়।

প্রমোশনাল লিংক শেয়ার করে আয়

রিং আইডির (ringID) এই মাধ্যমে ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে, হোয়াটসঅ্যাপে ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রমোশনাল লিংকগুলো শেয়ার করতে হয়।

৩. এজেন্ট হয়ে ইনকাম করুন

আপনি যদি রিং আইডির (ringID) সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন তাহলে আপনি রিং আইডিতে (ringID) এজেন্ট হয়ে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই মাধ্যমে ইনকামের পাশাপাশি অনেক সুবিধাও পাওয়া যায়।

রিং আইডিতে (ringID) এজেন্ট হয়ে আয় করাও বেশ সহজ। আপনি যদি এজেন্ট হতে পারেন তাহলে রিং আইডি (ringID) আপনার মাধ্যমে আপনার এলাকায় বেশ কিছু কাজ করবে এবং সে কাজ অনুযায়ী আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

এজেন্ট হলে অনেক সুবিধা রয়েছে এবং রিং আইডি (ringID) এজেন্টদের জন্য অনেক উপহারও পাঠায়। যেমনঃ সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ৫জন এজেন্টকে ৫টি গাড়ি ও ১ হাজার জন এজেন্টকে ১ হাজারটি মোটরসাইকেল রিং আইডি (ringID) এর পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হয়।

এজেন্টরা যে কাজগুলো করে

  • হোটেল বুকিং
  • ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল
  • বাসের টিকিট বুকিং
  • ট্রেনের টিকিট বুকিং
  • লঞ্চের টিকিট বুকিং
  • বিমানের টিকিট বুকিং
  • অনলাইন শপিং
  • জমি ক্রয় ও বিক্রয়
  • ফ্ল্যাট ক্রয় ও বিক্রয়ে সহযোগিতা ও ইত্যাদি।

এছাড়াও রিং আইডি (ringID) তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে তাদের প্রোডাক্ট ও সেবার তথ্য নতুন গ্রাহকদের সাথে শেয়ার করার কাজ দেয়।

শেষ কথাঃ আপনি যদি রিং আইডি (ringID) এর মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসে আয় করতে চান তাহলে উপরের যেকোন একটি মাধ্যমে আয় শুরু করতে পারেন। তবে আমি সাজেশন দিবো এজেন্ট হয়ে আয় করা জন্য। কেননা রিং আইডি (ringID)তে সবচেয়ে বেশী  সুবিধা আছে এজেন্ট হয়ে ইনকাম করার মধ্যে।

তো বন্ধুরা এই ছিলো আজকের আর্টিকেল। আর্টিকেল কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন, এছাড়াও আর্টিকেলের বিষয়ে যেকোন কিছু জানতে কমেন্ট করুন। আমি যথাসম্ভব আপনার কমেন্টের উত্তর দিবো। সাথে থাকুন, ধন্যবাদ।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button

অ্যাডব্লকার ডিটেক্টেড

আপনি সম্ভবত অ্যাডব্লকার ব্যবহার করছেন। আমাদের সাইট ভিজিট করতে চাইলে অবশ্যই অ্যাডব্লকার ডিজেবল করতে হবে।