টেক নিউজ

বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ীঃ Rolls-Royce

আমরা বর্তমানে যে আধুনিক যুগে রয়েছি, সে যুগের যানবাহন ব্যবস্থা দারুণ, এবং সেই বাহন সিস্টেম কে আরো রোমাঞ্চকর করে তুলার জন্য বিশ্বের নামি-দামি অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো বাহারি রকমের বিলাসবহুল গাড়ি তৈরি করে আসছে। এ সব বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে Rolls-Royce হলো অন্যতম। এটির ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলে।

Rolls-Royce এর ইতিহাস

বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ী Rolls-Royce এর যাত্রা শুরু হয় ১৯০৪ সালে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার এর চার্লস রোল ও হেনরি রয়েস এর যাত্রা শুরু করেন।

চার্লস রোল ছিলেন একজন রেসিং ড্রাইভার ও কার ডিলার এবং রয়েস ছিলেন ইন্জিনিয়ার ও (কার ও হেলিকপ্টার) ডিজাইনার। দুইজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ী Rolls-Royce এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯০৪ সালে তাদের প্রথম গাড়ি মার্কেটে Launch করে, যার মডেল ছিল Rolls-Royce 10hp এবং এর টপ স্পিড ছিল ৬৩ কিলো. প্রতি ঘন্টা।

তখন এই গাড়ির দাম ধরা হয়েছিল 395 EURO। তাদের দুজনের নাম অনুসারে এই গাড়ির নাম হয় Rolls-Royce। ১৯০৭ সালে Rolls-Royce এর Silver Ghost গাড়িটি পৃথিবীর শ্রেষ্ট গাড়ির প্রশংসা লাভ করে। পরবর্তীতে নানা রকম ডিজাইনের গাড়ি তৈরি করে তারা তাদের অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।পরে ১৯৮০ সনে অটোমোবাইল কোম্পানি  Vickers $933 million দিয়ে কোম্পানিটি কিনে নেয়।

১৯৮৫ সনে এটি  London stock Exchange এর অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে আবার আরেক জার্মান অটোমোবাইল কোম্পানি Vox wagon $430 Million দিয়ে Rolls Royce কিনে নেয়। তারপর তাদের আন্ডারে বেশকিছু মডেলের গাড়ি তৈরি করা হয়। যদিও পরে ১৯৯৮ সনে বিখ্যাত অটোমোবাইল কোম্পানি BMW €40Million EURO দিয়ে Rolls-Royce এর লোগো ও ব্র্যান্ড কিনে নেয়।

তখন BMW এর অধীনে পৃথিবী বিখ্যাত মডেলের গাড়ি তৈরি করে তার মধ্যে  Phantom  Ghost  Dawn Cullinan ইত্যাদি অন্যতম। ২০১৯ সনে Rolls-Royce ৫১৫২ টি গাড়ি বিক্রি করে এবং তাদের বেভিনিউ ছিল $21.18 Billion।

২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাদের কোম্পানির মোট Value রয়েছে $6.32 Billion। এ পর্যন্ত সবচেয়ে দামি Rolls-Royce টি হচ্ছে Rolls-Royce 50, যার দাম ধরা হয়েছে $13 Million। বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ী Rolls-Royce এর আসল রহস্য হচ্ছে এদের ব্র্যান্ড value নান্দনিক সব ডিজাইন ও চোখ ধাধানো সব টেকনোলজি।

Rolls-Royce অন্যসব কোম্পানির মতো অত্যাধিক গাড়ি ম্যানুফেকচারিং করে না। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। Rolls-Royce এর অধিকাংশ পার্টস হলো হ্যান্ড পেইন্ট। এমনকি তাদের Spirit of Extinct নামক যে লগো টা দেখতে পাই সেটাও হাতের নিখুঁত কারুকাজে তৈরি।

এর প্রধান বিশেষত্ব হলো Customization option। কাস্টমার চাইলে ইন্টিওর থেকে এক্সিওর নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারে। Rolls-Royce এর আরেকটি যাদু হলো color pellet। তাদের কাছে ৪৪ হাজার কালার পেলেট রয়েছে, কাস্টমার চাইলে তার মনমতো কালার করে নিতে পারবেন। এবং একটি কালার যদি কেউ ব্যবহার করে থাকে সেই কালার আরেকজন ব্যবহার করতে চাইলে তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

গাড়িটির ডিজাইন এর মধ্যে Night sky effect দেওয়া হয়েছে তার জন্য গাড়িটির মধ্যে Starlight যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ী Rolls-Royce তে  সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমনঃ Radar sensor, Position sensor, Pressure sensor, Virtual Bird, Eye view etc.।

এমন সব মজা মজা খবর পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।

ধন্যবাদ

সম্পর্কিত আর্টিকেল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button

অ্যাডব্লকার ডিটেক্টেড

আপনি সম্ভবত অ্যাডব্লকার ব্যবহার করছেন। আমাদের সাইট ভিজিট করতে চাইলে অবশ্যই অ্যাডব্লকার ডিজেবল করতে হবে।