ইসলামিক পোস্ট

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ – Ayatul Kursi in Bangla

আয়াতুল কুরসী, ayatul kursi bangla, আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ, আয়াতুল কুরসী বাংলা, আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি।

মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ আল-কোরাআন এর ২য় সূরা আল-বাকারার ২৫৫তম আয়াত আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) নামে পরিচিত। আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) খুবই ফজিলতপূর্ণ একটি আয়াত।

এই আয়াতে মহাবিশ্বের উপর মহান আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আয়াতটি সারাবিশ্বের মুসলমানেরা ব্যাপকভাবে পাঠ ও মুখস্থ করে। মুসলমানগণ বিশ্বাস করেন যে, এটি পাঠ করলে অসংখ্য উপকার ও পুণ্য লাভ হয়।

আল-কোরানের শ্রেষ্ঠতম আয়াত হিসেবে পরিচিত এই আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi)আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে অনেক ফজিলত হাসিল করা যায়। এই আয়াতুল কুরসিতে মহান আল্লাহ তায়ালার ৮টি সিফাত বা গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।

উবাই ইবনু কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি আবার বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’ (আয়াতুল কুরসি)। তখন তিনি আমার বুকে (হালকা) আঘাত করে বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক। (সুনানে আবু দাউদ-১৪৬০)।

আরও পড়ুনঃ  জুমার দিনের ১১টি আমল জেনে নিন

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি বস্তুরই চূড়া আছে। কুরআনের উঁচু চূড়া হলো সূরা আল-বাকারা। এতে এমন একটি আয়াত আছে যা কুরআনের আয়াতগুলোর প্রধান। তা হলো আয়াতুল কুরসি। (জামে আত-তিরমিজি-২৮৭৮)।

আয়াতুল কুরসি আরবি উচ্চারণ – Ayatul Kursi in Arabic

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ – Ayatul Kursi in Bangla

আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা আয়াত-২৫৫)।

আরও পড়ুনঃ  তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম – বাংলা নিয়ত, দোয়া এবং পড়ার ফজিলত

আয়াতুল কুরসী বাংলা অনুবাদ – Ayatul Kursi Meaning in Bangla

আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি

আয়াতুল কুরসির ফজিলত – Ayatul Kursi Bangla

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না। (শুআবুল ঈমান : ২৩৯৫)।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর আয়াতুল কুরসী

হযরত আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি ফরয নামাযের পর যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নাসায়ী, হাদীস ১০০)

আরও পড়ুনঃ  ঈদের চাঁদ ও নতুন চাঁদ দেখার দোয়া বাংলা ও আরবিতে

রোগ মুক্তিকে আয়াতুল কুরসী

আবু লায়লা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবি (সা.)-এর নিকট বসে থাকা অবস্থায় এক বেদুইন তাঁর কাছে এসে বলল, আমার এক অসুস্থ ভাই আছে। তিনি বলেন, তোমার ভাই কী রোগে আক্রান্ত? সে বলল, (কোনো কিছুর) কুপ্রভাব। তিনি বলেন, তুমি যাও এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আবু লায়লা (রা.) বলেন, সে গিয়ে তার ভাইকে নিয়ে এলে তিনি তাকে নিজের সামনে বসান। আমি শুনতে পেলাম, তিনি সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারার প্রথম চার আয়াত মধ্যখানের দুই আয়াত (১৬৩-১৬৪ নং আয়াত), আয়াতুল কুরসি (২৫৫ নং আয়াত) এবং বাকারার শেষ তিন আয়াত (২৮৪-২৮৬ আয়াত) এবং আল ইমরানের একটি আয়াত, আমার মনে হয় তিনি ১৮নং আয়াত পড়েছিলেন এবং সূরা আরাফের এক আয়াত (৫৪ নং আয়াত), সূরা মুমিনুনের এক আয়াত (১১৭নং আয়াত), সূরা জিন-এর এক আয়াত (৩নং আয়াত), সুরা সাফ্ফাত-এর প্রথম দশ আয়াত, সুরা হাশরের শেষ তিন (২২, ২৩ ও ২৪) আয়াত, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে তাকে ফুঁ দিলেন। তাতে বেদুইন এমনভাবে সুস্থ হয়ে দাঁড়াল যে, তার কোনো রোগই অবশিষ্ট নেই (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩৫৪৯)।

আয়াতুল কুরসি নিয়ে শেষ কথা

আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) খুবই ফজিলতপূর্ণ আয়াত। উপরে আমরা বেশ কয়েকটি ফজিলত বর্ণনা করেছি। এই আর্টিকেলে আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) বাংলা অনুবাদ, উচ্চারণ ও ছবি উল্লেখ করেছি। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) নিয়মিত পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আর্টিকেলটি শেয়ার করে আপনাদের পরিচিতদের আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) সমন্ধে জানিয়ে দিন।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

অ্যাডব্লকার ডিটেক্ট হয়েছে!

মনে হচ্ছে আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমাদের সাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অ্যাড ব্লকার বন্ধ করতে হবে। যদি অ্যাডব্লকার ব্যবহার না করেন, তাহলে পেজটি রিফ্রেশ করুন।